April 15, 2026, 9:37 pm
শিরোনাম :
সাংবাদিকসহ দশজনের বিরুদ্ধে মেডিকেল ডাক্তারের মামলা ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুলে শিক্ষার্থীদের হামের টিকাদান কর্মসূচি নানা আয়োজনে যবিপ্রবিতেপহেলা বৈশাখ উদযাপন যবিপ্রবিতে নতুন ভিসি অধ্যাপক ডঃ ইয়ারুল কবীর যশোরে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রায় বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন সংসদে জবাবদিহিতার সাথে কাঠগড়ায় দাড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন শিক্ষামন্ত্রী  যশোরে তেলের সিরিয়াল নিয়ে ছাত্রদল-যুবদল সংঘর্ষ, আহত ৩ জনগুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল করে সরকার জনগনের বুকে ছুরিকাঘাত করেছে -গোলাম রসুল এমপি যশোরে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত, প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশনা যশোর প্রেসক্লাবে মামলাবাজির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন, প্রাণনাশের শঙ্কা

সাংবাদিকসহ দশজনের বিরুদ্ধে মেডিকেল ডাক্তারের মামলা

যশোর প্রতিনিধি

সাংবাদিকসহ দশজনের বিরুদ্ধে মেডিকেল ডাক্তারের মামলা

যশোর প্রতিনিধি

মেডিকেল অফিসার রাফসানজানি যশোরের সাংবাদিকসহ দশজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

ধর্ষণ মামলা দিয়ে জেলের ভয় দেখিয়ে টাকা দাবির অভিযোগে গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) ওই দশ জনের বিরুদ্ধে যশোরের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিনি মামলাটি করেন।

রাফসানজানি যশোর সদরের ঘুরুলিয়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে ও মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার।

সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সুলতানা অভিযোগের তদন্ত করে ডিবি পুলিশকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী আব্দুর রহমান সোহাগ।

আসামিরা হলেন, যশোর সিটি কলেজপাড়ার আকবরের ছেলে ও স্বদেশ বিচিত্রার সাংবাদিক আসিফ আকবর সেতু, উপশহরের আমিন উদ্দিনের ছেলে ও ডিবিসি নিউজ টিভির যশোর জেলা প্রতিনিধি সাকিরুল কবীর রিটন, বিরামপুর ফকিরার মোড় এলাকার হাজী লিয়াকত আলীর ছেলে ও এশিয়ান টিভির যশোর জেলা প্রতিনিধি হাসিবুর রহমান শামীম, মণিরামপুরের ঢাকুরিয়া করেরআইল গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে ও নাগরিক ভাবনার উপজেলা প্রতিনিধি জকির হোসেন, তাহেরপুর গ্রামের দেবাশীষ চক্রবর্তীর ছেলে ও অনলাইন কলমকথার সম্পাদক সুমন চক্রবর্তী, এসএম সিদ্দিকের ছেলে এসএম তাজাম্মুল, কুয়াদা জামজামি গ্রামের মৃত আনোয়ার বিশ্বাসের ছেলে আব্দুল হাই, বিপ্রকোনা গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে নুর ইসলাম নাহিদ, হাকোবা গ্রামের পীর আলীর ছেলে তহিদুল ইসলাম ও দৈনিক অভয়নগরের প্রতিনিধি ইসমাইল হোসেন।

মামলার অভিযোগে জানা গেছে, ডাক্তার রাফসানজানির শ্যালিকা রাগের মাথায় তাকে ও তার বোনকে শায়েস্তা করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ঘটনা উল্লেখ করে পোস্ট করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যশোরের কতিপয় সাংবাদিক পরিচয়দানকারী ডাক্তার রাফসানজানিকে মামলা দিয়ে জেল খাটানোর ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করতে থাকেন।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৮ মার্চ আসামি আসিফ আকবর সেতু ফোন করে ডাক্তার রাফসানজানিকে দেখা করতে বলেন। ওইদিন সন্ধ্যায় ডাক্তার ও তার স্ত্রী যশোর জিলা স্কুলের সামনে আসামি সেতুর সাথে দেখা করলে মামলা ও চাকরিচ্যুত থেকে বাঁচতে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। এরপর ১২ মার্চ ডিবিসি নিউজের সাংবাদিক সাকিরুল কবীর রিটন ফোন করে দেখা না করলে বিপদ হবে বলে ডাক্তার রাফসানজানিকে হুমকি দেন। রাতে ডাক্তার তার স্ত্রীকে নিয়ে এশিয়ান টিভির যশোর প্রতিনিধি শামীমের অফিসে গিয়ে দেখা করেন। ওইসময় আসামি রিটন, শামীম, সেতু ভয়ভীতি দেখিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দুই দিনের মধ্যে টাকা না দিলে তার শ্যালিকাকে দিয়ে মামলা করিয়ে দিবেন বলে তারা শাসান। এছাড়া ৮ মার্চ থেকে ১৮ মার্চ পর্যন্ত আসামিরা বিভিন্ন সময় ফোনকল ও টেক্সট করে হুমকি দেন।

অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, আসামি সেতু ও নাহিদ ডাক্তারের শ্যালিকাকে ফুঁসলিয়ে মণিরামপুর নিয়ে যা। আসামি জাকির ও তহিদুল তার শ্যালিকাকে তাদের হেফাজতে নিয়ে মামলা করতে প্রভাবিত করেন। মামলা করতে রাজি না হওয়ায় আসামিরা তাকে মণিরামপুর থানায় নিয়ে আটকে রেখে ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে মামলা করান।

এর আগে ডাক্তারের শ্যালিকা নিখোঁজের ব্যাপারে একটি জিডি করতে মণিরামপুর থানায় খোঁজ নিতে যান তার শ্বশুর ও শাশুড়ি। আসামিরা তার শ্বশুরকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে থানা থেকে বের করে দেন। এদিন আসামি আব্দুল হাই ডাক্তারকে ফোন করে মামলা থেকে বাঁচতে দেড় লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এরপর তার শ্যালিকা আদালতে জবানবন্দী দেয় এবং তার ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে একটি শেল্টারহোমে রাখা হয়। সেখান থেকে বেরিয়ে তার শ্যালিকা যশোর প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, আসামিরা তাকে দিয়ে ধর্ষণের মিথ্যা মামলা করিয়েছেন।

আসামিরা একে অপরের সহযোগিতায় ধর্ষণ মামলা দিয়ে ডাক্তারকে জেল খাটানোর ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি করেন- অভিযোগে তিনি আদালতে এ মামলা করেছেন।